Total Pageviews

Saturday, October 23, 2010

Indigenous Peoples representation to the Parliament is a must

Courtesy: Samakal, Dhaka, sub-editorial, 23 Oct 2010

Web: http://www.samakal.com.bd/details.php?news=20&action=main&menu_type=&option=single&news_id=102891&pub_no=493&type=


সুশাসন
সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হোক

অভয় প্রকাশ চাকমা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা সহাবস্থানের কথা বলা হলেও নির্বাচন এলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। পাহাড়ি ও বাঙালি দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভোটাররাদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ১৯ অক্টোবর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশ্বাস দিয়েছেন, যা গত ২০ অক্টোবর দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আশ্বস্ত যে, সংশোধিতব্য শাসনতন্ত্রে আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি সনি্নবেশিত হচ্ছে। আদিবাসীদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু সংযুক্ত হতে পারে শাসনতন্ত্রে। তবে জাতীয় রাজনীতির স্রোতধারায় আদিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা সহাবস্থানের কথা বলা হলেও নির্বাচন এলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। পাহাড়ি ও বাঙালি দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভোটাররা। পাহাড়ি জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ইতিপূর্বে বেশিরভাগ নির্বাচনে পাহাড়িরা জিতেছিল। কিন্তু আদিবাসী অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুতে পর্যবসিত করায় অধিকাংশ নির্বাচনে এখন বাঙালিদের বিজয়ের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন কোনো নির্বাচনেই আদিবাসীরা জিততে পারবে না।১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী পাহাড়ি বাঙালির মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছিল না। অন্যান্য জেলা থেকে চাকরি বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আগত বাঙালিরাও সম্প্রীতি নিয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে বসবাস করেছিল। চাকরি বা ব্যবসা শেষে তারা বাড়ি চলে যেত, পরে আবার বেড়াতে আসত। অনেক বাঙালি পাহাড়িদের ঘরে নির্বিঘ্নে থাকত, কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু সম্প্রীতির বন্ধন ছিঁড়তে শুরু করল ১৯৭৯ সাল থেকে, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সমভূমি থেকে লাখ লাখ বাঙালি পরিবার নিয়ে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়।বাংলাদেশে বিদ্যমান সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে সংসদ হচ্ছে শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। চিরকাল অবহেলিত ও নিপীড়িত আদিবাসীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব থাকা অনিবার্য। ইতিপূর্বে আদিবাসীদের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তাতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল না। আমরা জানতেও পারতাম না আমাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শুধু বাস্তবায়নের সময় জানতে পারতাম, তখন আমাদের কিছুই করার থাকে না। বর্তমানে সংসদে পাঁচজন আদিবাসী সাংসদ রয়েছেন, সবাই সরকারি দলের, আগে একসঙ্গে এতজন আদিবাসী সাংসদ ছিলেন না। তারা আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য কাজ করছেন। আদিবাসী বলেই তারা আদিবাসী বিষয়ে কাজ করতে পারছেন, আদিবাসী না হলে আন্তরিকভাবে কেউ কাজ করতেন না। তবে তারা শুধু আদিবাসী নয়, দল-মত, ধর্ম, আদিবাসী-বাঙালি নির্বিশেষে সবার জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন। আদিবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারছেন এবং আদিবাসীবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে সরকারকে অবহিত করতে পারছেন। এসব সম্ভব হচ্ছে শুধু সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব আছে বলে, না থাকলে বিপরীতধর্মী কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।গণতান্ত্রিক ও জাতি বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে সংসদে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখা সমীচীন। তাই আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আসন সংরক্ষণের বিকল্প নেই। সংসদের তিনশ' আসনের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা আসনে তিনটি, সমভূমিতে বসবাসকারী আদিবাসীদের জন্য দুটি, সংরক্ষিত মহিলা আসনে পাহাড়ি ও সমতলের দু'জন আদিবাসী মহিলাসহ মোট সাতটি আসন সংরক্ষিত করে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। এতে বিশ্বের দরবারে দেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং আদিবাসী বিষয়ে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রও কার্যকর করতে সহজ হবে।পার্বত্য চুক্তি অনুসারে ইতিপূর্বেকার আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল, একজন আদিবাসী পূর্ণমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন বলে আইন করা হয়েছিল। গত জোট সরকারের আমলে এ আইন লঙ্ঘন করে রাখা হয়েছিল উপমন্ত্রী, এখন প্রতিমন্ত্রী সত্ত্বেও পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী। তবে পূর্ণমন্ত্রী করা হলে চুক্তি বা আইনও লঙ্ঘন হতো না, আমরাও স্বস্তিবোধ করতাম। এ বিষয়টি বিবেচনায় আনলে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের নিখাদ আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটত।পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুসারে শাসনতন্ত্রের পুনর্মুদ্রণ হলে বাংলাদেশ আবার ধর্মনিরপেক্ষতার মর্যাদা ফিরে পাবে। শাসনতন্ত্র সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটি সংশোধনের কাজ করছে, আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকারের শাসনতান্ত্রিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন বলে কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন। তবে জাতীয় রাজনীতিতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সাতটি আসন সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে, এ আসনগুলোয় শুধু আদিবাসীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। অন্যথায় বাঙালির জনসমুদ্রে হাতেগোনা আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও অবস্থান দৃশ্যমান হবে না। স্বীকৃতির পাশাপাশি সংসদীয় আসন সংরক্ষণের বিষয়টি শাসনতন্ত্রে সনি্নবেশ করলে আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা প্রাপ্তির দ্বারে প্রবেশ করবে। তা না হলে পার্বত্য আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

অভয় প্রকাশ চাকমা : কলাম লেখক

No comments:

Post a Comment