Total Pageviews

Tuesday, August 09, 2011

PCJSS statement on the International Day of the World's Indigenous Peoples- 2011

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০১১

সংবিধানে আদিবাসীদের জাতি পরিচয় বাঙালী হিসেবে চিহ্নিতকরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হোন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রাম জোরদার করুন

সংগ্রামী জনতা,

আগষ্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে এই দিনটি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের জাতি পরিচয় বাঙালী, সংবিধানের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার প্রতিবাদে এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রাম জোরদার করার দাবীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে

সন্মানিত সুধী,

১৯৮২ সালের আগষ্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদেও মানবাধিকার মৌলিক স্বাধীনতার প্রসার সংরক্ষণ এবং আদিবসীদের মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করা এই স্মরণীয় দিনটিকে জাতিসংঘ আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ থেকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করা হয় অপর এক ঘোষণায় ১৯৯৫-২০০৪ আদিবাসী দশক ঘোষণা করা হয় উদ্দেশ্য হলো আদিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে যে সমস্ত সমস্যার মুখোমুখী দাঁড়াতে হয় সে সব সমস্যা উত্তরণে আন্তর্জাতিক সাহায্যের হাতকে আরও শক্তিশালী করা যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথম দশক ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু এক দশক পর দেখা গেল উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু অর্জিত হয়নি ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৫-২০১৪ সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে ঘোষণা করে এভাবেই বিগত দুই দশক জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের মানবিক অধিকার সংহত করে জাতিরাষ্ট্রসমূহের কাছে তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অঙ্গীকার আদায়ে সযত্ন প্রয়াস চলছে

কারা আদিবাসী? প্রসঙ্গে জাতিসংঘ আদিবাসীদের চিহ্নিত করতে নিন্মোক্ত কতগুলো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে

· জনগোষ্ঠীর একটা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে যেমন- পূর্বপুরুষের ভূমি পুরো বা অংশতঃ দখল করে আছে; ভূমির যৌথ মালিকানা রয়েছে; সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রতিফলন আছে; নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে; দেশের বা বিশ্বের কোন একটা সুনির্দিষ্ট অংশের বাসিন্দা; সম্পর্কিত অন্যান্য উপাদানসমূহ

· জাতিরাষ্ট্র গঠনে যাদের অংশীদারিত্ব নেই

· জনগোষ্ঠীর মধ্যে উপনিবেশিকতা বা আগ্রাসনের ইতিহাস রয়েছে

· যারা এখনও জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে এবং বর্তমানে এরা অন্য আধিপত্যকারী সমাজ হতে ভিন্ন

· নিজেদের সমাজের মধ্যে অনাধিপত্যতা চর্চা করছে

· তাদের ভূখন্ড জাতি পরিচিতি সংরক্ষণ, উন্নয়ন ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্থানান্তর করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে

· সর্বোপরি যারা আদিবাসী হিসেবে নিজেদের চিহ্নিত করে (আত্মচিহ্নিতকরণ)

২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয় ঘোষণায় আদিবাসীদের নিম্নোক্ত উল্লেখযোগ্য অধিকারসূহ নিশ্চিত করা হয়েছে

· আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার; সেই অধিকার বলে তাদের অবাধে রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ, অর্থনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রাখে;

· আদিবাসীদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন, দখলীয় কিংবা অন্যথায় ব্যবহার্য্য কিংবা অধিগ্রহণকৃত জমি, ভূখন্ড সম্পদের অধিকার;

· ভূমি ভূখন্ডের, সম্পদ তাদের পরিবেশ সংরক্ষণে সমষ্টিগত অধিকার;

· রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা উন্নয়নের অধিকার,

· আইন প্রনয়ণে প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণের অধিকার;

· স্বাস্থ্যসেবার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ঔষধ স্বাস্থ্য বিষয়ক পদ্ধতি চর্চার অধিকার;

· সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ভাষাগত পরিচিতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কিত অধিকার,

· মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা তথ্য অধিকার;

· নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, স্বাতন্ত্র প্রথা পদ্ধতি চর্চা, পরিচর্যার অধিকার;

· নিজস্ব প্রথা ঐতিহ্য মোতাবেক আত্ম-পরিচয়ের অধিকার;

· আদিবাসীদের স্বেচ্ছা-সন্মতি ব্যতিরেকে তাদের ভুমি ভূখন্ডে সামরিক কার্যক্রম হাতে নেয়া যাবে না- অধিকার;

· রাষ্ট্র আদিবাসীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির স্বীকৃতি, পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নের অধিকার;

· গণহত্যা, জোরপূর্বক স্থানান্তর উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পূর্ণ নিশ্চয়তার অধিকার;

· নারী, বয়স্ক, শিশু, যুবক প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের অধিকার;

· সহিংসতা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা প্রদানের অধিকার;

ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে তাছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিভাগ, বিশেষায়িত সংস্থা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ ঘোষিত অধিকারগুলো কার্যকর করতে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে

বাংলাদেশের আদিবাসী জনসাধারণ তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বংশ পরম্পরায় বসবাস করলেও বাংলাদেশ সরকার আদিবাসীদের অস্তিত্ব স্বীকার করতে নারাজ যদিও বর্তমান সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী দিবসে আদিবাসীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছাবাণীও দিয়েছিলেন কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসীদেরকে কখনো উপজাতি, ক্ষুদ্র ণৃ-গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

বিপ্লবী জনতা,

গত ৩০ জুন বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে সংশোধনীতে আদিবাসীদের অত্যন্ত অপমানজনকভাবে জাতি হিসেবে ‘বাঙালী’ পরিচয়দান করা হয়েছে সংবিধানের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে চপেটাঘাত করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং সংবিধানের প্রারম্ভে বিস্মিল্লাহ্ দিয়ে রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ পূর্বক যেকোন সময় আইনের বিধি নিষেধ আরোপ করে সংগঠন বন্ধ করার সাংবিধানিক ক্ষমতাও রাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তিত্ব আমাদের পার্টি থেকে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় প্রত্যাখানপূর্বক সংশোধনীর কতিপয় ধারা সংশোধনের দাবী জানানো হয়েছে

বিগত ১১ জানুয়ারী আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনীর জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি কো-চেয়ারপার্সন বেগম সাজেদা চৌধুরীর নিকট আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিযুক্ত দাবীনামা পেশ করা হয়েছে আদিবাসীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন আদিবাসীদের বন্ধুপ্রতীম কয়েকজন মাননীয় সাংসদসহ দেশ বিদেশের নানা ব্যক্তিত্বগণও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন সকল প্রকার দাবী উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকার উক্ত সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আবারো উগ্র জাত্যাভিমান সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ ছিল অথচ বর্তমানে সরকার দেশে আদিবাসী নেই বলে দাবী জানিয়ে আসছে বর্তমানে সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে যোজন যোজন দূরে

সংগ্রামী জুম্ম জনতা,

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন আদিবাসীদের বাঙালী বানানো হলো তখন জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রতিবাদ দেখা গেল না এমন কি পার্বত্য তিন আসন থেকে নির্বাচিত তিন এমপি, তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ যে সকল জুম্ম আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টির সাথে যুক্ত তাঁরা বোবা হয়ে গেলেন এতদিন যারা ভাবতেন জাতীয় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পার্বত্য জুম্ম জনগণের উন্নতি করা যাবে! সাংবিধানিকভাবে আদিবাসীদের বাঙালী বানানোর ঘটনা প্রমাণ করে দিলো তারা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জুম্ম জনগণের কাতারে এসে দাঁড়াতে পারেন না নিজেদের স্বার্থ গোছাতে তারা ব্যস্ত, জুম্ম জনগণের অধিকার, মান-অপমান, নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে ভাববার অবকাশ তাঁদের নেই দেশের সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ বার বার আসে না গত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে সে সুযোগ সৃষ্টি হয় ১৯৭২ সালের দেশের প্রথম সংবিধানে যে সব দুর্বলতা ছিল তা শুধরিয়ে আরো যুগোপযোগী করারও সুযোগ সৃষ্টি হয় কিন্তু তা না করে সরকার সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করেছে শাসকশ্রেণী নিজেদের স্বার্থে ১৪ বার সংবিধান কাটাছেঁড়া করলেও দেশের মেহনতি মানুষ আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শব্দও লিপিবদ্ধ করেনি বাংলাদেশের এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক পৃথক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করেছিলেন এই সমিতি ৪০ বছর ধরে কখনও সশস্ত্র সংগ্রাম কখনও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছে জুম্ম জনগণের দীর্ঘ এই সংগ্রামের ফলে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তি জাতি সংঘের আন্তর্জাতিক আদিবাসী ঘোষণাপত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তাই দেশে বিদেশে এই চুক্তি নৈতিক রাজনৈতিক সমর্থন লাভ করেছে কিন্তু বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন উল্টো পথে হাঁটছে আর সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে জুম্ম সুবিধাবাদী শ্রেণীর লোকজন এইসব লোকদের মধ্যে যারা জুম্ম জনগণের পক্ষে কাজ করবে না তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে সুতরাং,

Ø জুম্ম স্বার্থ বিরোধী সুবিধাবাদীদের বর্জন করুন

Ø সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রামে সামিল হোন

Ø জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণের সংগ্রামে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলুন

Ø পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রাম জোরদার করুন

ইলেক্ট্রনিক ভার্সন প্রচার: কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, খাগড়াছড়ি, ৯ জুলাই, ২০১১ খৃষ্টাব্দ।

Contact: Mobile: 01821349530, E-mail: chtpcjss@gmail.com, Web: http://chtvoice.blogspot.com

No comments:

Post a Comment