Total Pageviews

Thursday, October 04, 2012

পাহাড়ে শান্তি কি সুদূরপরাহতই থাকবে? পানছড়িতে হত্যাকাণ্ড


 Prothom Alo, Dhaka, Editorial

 

পাহাড়ে শান্তি কি সুদূরপরাহতই থাকবে?

পানছড়িতে হত্যাকাণ্ড

তারিখ: ০১-১০-২০১২


সম্প্রতি রাঙামাটিতে দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারিকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছিল। প্রশাসনের ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং সেখানে বসবাসকারী উভয় সম্প্রদায়ের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় ঘটনা বেশি দূর এগোতে পারেনি। কিন্তু দুই দিন না যেতেই খাগড়াছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পানছড়িতে সন্ত্রাসীদের হাতে দুই ইউপিডিএফের কর্মী নিহত হলো। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) অভিযোগ, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কর্মীরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও জেএসএস এর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে। 
 
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। একদিকে আদিবাসী-বাঙালি দ্বন্দ্ব, যার প্রতিক্রিয়ায় প্রায়ই সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে সেখানে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। দুটি সংগঠনই যেহেতু নিজেদের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করে, সেহেতু রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও তাদের উচিত ছিল একযোগে কাজ করা। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে তারা একে অপরকে শত্রু মনে করে এবং সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়। গত এক দশকে বাঙালিদের হাতে যত পাহাড়ি মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মারা গেছে দুই আদিবাসী সংগঠনের অন্তর্দ্বন্দ্বে। জেএসএস ও ইউপিডিএফের বিরোধের শুরু পার্বত্য চুক্তি হলেও এখন সেটি আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। 
 
পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজন সেখানে বসবাসরত আদিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করা। জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতাদের বুঝতে হবে, দুই সংগঠনের অব্যাহত লড়াইয়ে সেখানে কেবল শান্তিই বিঘ্নিত হচ্ছে না, বাড়তি সেনা ছাউনি ও সেনাসদস্য মোতায়েনকেও যৌক্তিকতা দিচ্ছে। সাধারণ পাহাড়িরাও সংঘাত-সংঘর্ষ চায় না। 
 
পানছড়ির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারে সোপর্দ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। বিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনকে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমেই পার্বত্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের বিভক্তি পাহাড়িদের অবস্থান যেমন দুর্বল করবে, তেমনি শান্তি প্রতিষ্ঠাও হবে সুদূরপরাহত।

No comments:

Post a Comment